Telegram Logo Join Channel ইরানকে ঠেকাতে আমেরিকার হাতে হারিকেন – সস্তা ড্রোন বনাম দামী মিসাইল

Header Ads Widget

ইরানকে ঠেকাতে আমেরিকার হাতে হারিকেন – সস্তা ড্রোন বনাম দামী মিসাইল

মশা মারতে কামান! ইরানের সস্তা ড্রোন ঠেকাতে মিলিয়ন ডলারের মিসাইল

Image : ইরানকে ঠেকাতে আমেরিকার হাতে হারিকেন – সস্তা ড্রোন বনাম দামী মিসাইল


বর্তমান বিশ্বের সামরিক কৌশলে এক নতুন বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। আধুনিক যুদ্ধ এখন শুধু শক্তিশালী ট্যাংক, যুদ্ধবিমান বা পারমাণবিক অস্ত্রের উপর নির্ভর করে না। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে যুদ্ধের ধরনও বদলে গেছে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা ড্রোন প্রযুক্তি উন্নত করেছে। এই ড্রোনগুলো অনেক সময় দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে এগুলো ঠেকাতে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়, যার খরচ অনেক বেশি। এই কারণেই অনেক সামরিক বিশ্লেষক এই পরিস্থিতিকে তুলনা করেন “মশা মারতে কামান ব্যবহার” কথাটির সাথে।

আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন প্রযুক্তির উত্থান

গত এক দশকে ড্রোন প্রযুক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ড্রোন এমন একটি যন্ত্র যা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহার করা হয় নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ, এবং আক্রমণের জন্য।

অনেক দেশ এখন ড্রোন ব্যবহার করে সীমান্ত পর্যবেক্ষণ করে এবং শত্রুপক্ষের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। এর পাশাপাশি কিছু ড্রোন সরাসরি আক্রমণ চালানোর জন্যও তৈরি করা হয়, যেগুলোকে অনেক সময় “কামিকাজে ড্রোন” বলা হয়।

ইরানের ড্রোন কৌশল

ইরান গত কয়েক বছরে ড্রোন প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। বিশেষ করে “Shahed সিরিজের ড্রোন” আন্তর্জাতিকভাবে বেশ আলোচনায় এসেছে। এই ধরনের ড্রোন তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি করা যায় এবং দীর্ঘ দূরত্ব পর্যন্ত উড়তে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ড্রোনের আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এই তুলনামূলক কম খরচের কারণে এগুলো অনেক সংখ্যায় তৈরি করা সম্ভব।

ড্রোনগুলো সাধারণত লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত করার জন্য তৈরি করা হয়। এগুলো আকাশে অনেক দূর পর্যন্ত উড়তে পারে এবং নির্দিষ্ট স্থানে আঘাত করার জন্য প্রোগ্রাম করা থাকে।

আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো Patriot Missile Defense System। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশে থাকা শত্রু মিসাইল বা ড্রোন শনাক্ত করে এবং সেগুলো ধ্বংস করার জন্য interceptor missile ব্যবহার করে।

একটি Patriot interceptor মিসাইলের দাম আনুমানিক ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ তুলনামূলক সস্তা একটি ড্রোন ধ্বংস করতে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়।

আরও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে THAAD (Terminal High Altitude Area Defense) ব্যবহার করা হয়। এই সিস্টেমের interceptor মিসাইলের দাম আরও বেশি হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

“মিসাইল ম্যাথ সমস্যা”

এই পরিস্থিতিকে অনেক সামরিক বিশ্লেষক “missile math problem” বলে উল্লেখ করেন। এর অর্থ হলো আক্রমণকারী পক্ষ তুলনামূলক কম খরচে আক্রমণ চালাতে পারে, কিন্তু প্রতিরক্ষাকারী পক্ষকে সেই আক্রমণ ঠেকাতে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, যদি একটি ৩০ হাজার ডলারের ড্রোন আকাশে উড়ে আসে এবং সেটিকে ধ্বংস করতে ৩ মিলিয়ন ডলারের মিসাইল ব্যবহার করতে হয়, তাহলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার খরচ আক্রমণের খরচের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে যায়।

এই কারণেই অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন ভবিষ্যতের যুদ্ধ অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরক্ষা খরচ অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি

এই সমস্যার সমাধানের জন্য অনেক দেশ নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা করছে। এর মধ্যে রয়েছে লেজার অস্ত্র, ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

লেজার অস্ত্রের একটি বড় সুবিধা হলো এটি ব্যবহার করতে তুলনামূলক কম খরচ হয়। একটি লেজার শটের খরচ অনেক কম হতে পারে এবং এটি দ্রুত একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে।

এছাড়া ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যাতে ড্রোনটি তার লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে না পারে।

আধুনিক যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা

বিশ্বের অনেক সামরিক বিশ্লেষক মনে করেন যে ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে প্রযুক্তিনির্ভর এবং অর্থনৈতিকভাবে হিসাব করা। সস্তা ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুদ্ধের কৌশলকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে।

এই পরিস্থিতিতে অনেক দেশ তাদের প্রতিরক্ষা নীতি নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা করছে। কারণ শুধু শক্তিশালী অস্ত্র থাকলেই হবে না, সেই অস্ত্র ব্যবহারের খরচও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপসংহার

ইরানের সস্তা ড্রোন এবং আমেরিকার উন্নত প্রতিরক্ষা মিসাইলের এই তুলনা আধুনিক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরে। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, যুদ্ধের কৌশলও তত পরিবর্তিত হচ্ছে।

এই কারণে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— ভবিষ্যতের যুদ্ধ কি হবে “সস্তা ড্রোন বনাম দামী মিসাইল” এর যুদ্ধ?

সময়ের সাথে সাথে নতুন প্রযুক্তি এবং কৌশল এই প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণ করবে।

Post a Comment

0 Comments